Wikipedia

Search results

Thursday, 9 April 2020

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান স্থগিত

আন্তজার্তিক:
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান স্থগিত
 ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
পাঁচ বছরব্যাপী যুদ্ধ থামাতে জাতিসংঘের প্রয়াসে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।


ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সেনা সমর্থিত জোটের অভিযান শুরু হয় ২০১৫ সালে।


তবে হুতি বাহিনী এই যুদ্ধবিরতির শর্ত মানবে কিনা, তা এখনও পরিস্কার নয়।


গতমাসে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস ইয়েমেনে অবস্থানরতদের আহ্বান জানান অতিসত্ত্বর যুদ্ধ থামাতে এবং করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে।


দেশজুড়ে যুদ্ধকালীন সহিংসতা নিরসনের লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথসের সাথে সব পক্ষের সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।


বুধবার মার্টিন গ্রিফিথস যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, "সব পক্ষকে এখন এই সুযোগ গুরুত্বের সাথে ব্যবহার করতে হবে এবং সব ধরণের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।"


যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করতে দুই পক্ষেরই ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করার কথা।


যুদ্ধবিরতিতে সব ধরণের বিমান, স্থল এবং নৌ সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।


যৌথবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়: "জাতিসংঘের দূতের চেষ্টায় এবং ইয়েমেনিদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ও করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছে জোট।"


ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল।


ঐ যুদ্ধে অনেক বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে এবং ইয়েমেনকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলেছে।


হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আব্দুসসালাম জানিয়েছেন তারা জাতিসংঘকে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করেছে। তারা চায় যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের 'অবরুদ্ধ অবস্থা'র সমাপ্তি।


আরো পড়তে পারেন:


সৌদি আরবে কি পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে


যে কারণে সৌদি আরব ছাড়তে চান অনেক তরুণী

ইয়েমেন সংকট: কে কার সঙ্গে কেন লড়াই করছে?

সমঝোতা সত্ত্বেও যুদ্ধ চলছে ইয়েমেনে


গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

ইয়েমেনে চলমান ব্যয়বহুল সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযান শেষ করার পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সৌদি আরবের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব।

জোটের বিবৃতিতে উঠে আসে যে করোনাভাইরাসের আশঙ্কার কারণেই এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করা হয়েছে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল সম্পদের ওপর হামলা হওয়ার পরও হুতি নেতাদের সাথে গোপনে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। সেসময় হামলার দায় চাপানো হয় ইরানের ওপর।
তবে গত কয়েকমাসে হুতি বাহিনী সেনা কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায় হুতি নেতারাও আলোচনা সাপেক্ষে যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। কিন্তু একইসাথে সশস্ত্র যুদ্ধেও তারা পিছপা হতে চাচ্ছে না।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও ইয়েমেন সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান পাওয়া কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র bcc

শাবানের মধ্য রজনী তথা শবে বরাতের করনীয় ও বর্জনীয় আমল

ইসলামিক:শাবানের মধ্য রজনী তথা শবে বরাতের করনীয়
ও বর্জনীয় আমল সমূহঃ
পূর্ন শাবান মাস রাসূল সাঃ বেশী বেশী
রোজা রাখতেন ও নেক আমল করতেন যেহেতু এ
মাসের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।
তাই শুধু শাবানের মধ্য রজনী নহে বরং পূর্ণ
শাবানের সকল দিনে রোজা রাখা ও রজনীতে
বেশী বেশী নামাজ পড়া উওম।
ﺭﻭﻱ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻢ ﺍﺭﻙ ﺗﺼﻮﻡ ﺷﻬﺮﺍ ﻣﻦ
ﺍﻟﺸﻬﻮﺭ ﻛﻤﺎ ﺗﺼﻮﻡ ﻓﻲ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻗﺎﻝ ﺫﻟﻚ ﺷﻬﺮ ﺑﻴﻦ ﺭﺟﺐ ﻭﺭﻣﻀﺎﻥ
ﻳﻐﻔﻞ ﻋﻨﻪ ﻛﺜﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﻫﻮ ﺷﻬﺮ ﺗﺮﻓﻊ ﻓﻴﻪ ﺍﻷﻋﻤﺎﻝ ﺍﻟﻲ ﺭﺏ
ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﺄﺣﺐ ﺃﻥ ﻳﺮﻓﻊ ﻋﻤﻠﻲ ﻭﺍﻧﺎ ﺻﺎﺋﻢ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﺻﺤﺤﻪ
ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ )
উসামা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন: রাসূল
সা কে বললামঃ আপনি শাবান মাসে এত
বেশী রোজা রাখেন যা অন্য কোন মাসে এত
রোজা রাখতে দেখিনি।তখন রাসূল সা
বললেন,রজব ও রমজানের মধ্যে এ মাস সম্পর্কে
মানুষ গাফিল থাকে, এমাসে আমল আল্লাহর
কাছে পেশ করা হয় অতএব আমি চাই আমার
আমল রোজা অবস্থায় আল্লাহর কাছে পেশ
করা হোক।( নাসাঈ)
মধ্য শাবান তথা শবে বরাতের দিন যে সকল
হাদীসে খাছ ভাবে রোজা রাখার ফযিলত
বর্নীত হয়েছে
সবগুলু অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্নীত হয়েছে । তবে
আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি আরবী মাসের
13,14,15 তারিখ রোজা রাখা সুন্নাহ তাই এ
নিয়্যাতে রোজা রাখা উত্তম।
যে সকল হাদীসে শাবানের মধ্যরাতে জাগ্রত
হয়ে ইবাদতের ফযিলত বর্নীত হয়েছে তা
অত্যন্ত দুর্বল সনদে বর্নীত হয়েছে তবে একটা
হাদীস কোন কোন মুহাদ্দীস হাসান বলেছেনঃ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻴﻄﻠﻊ ﻋﻠﻰ ﺧﻠﻘﻪ ﻓﻲ
ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺧﻠﻘﻪ ﺇﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺃﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ )
তাই শাবানের সকল রাতের মত শাবানের
মধ্যরাতে আমরা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ব ,
তিলাওত করব তবে এ রাতকে খাছ করে নয় ।
যেহেতু আল্লাহ বছরের সকল রাতে নীচের
আকাশে এসে বলেনঃ তোমাদের কেহ আছে
কি তাওবা করবেঃ আমি তার তাওবা কবুল করব
( বোখারী)
বর্জনীয় আমল সমূহঃ
শবেবরাতের নিয়্যাতে আলাদা কোন নামাজ
নেই যার কোন দলিল নেই ।তেমনি হাজারী
নামাজ,একশত রাকাত সূরা ফাতিহা ইখলাছ
দিয়ে পড়া যা সম্পূর্ণ জাল হাদীস।
সে রাতে অগ্নী প্রজ্জ্বলিত করা,আগর বাতি
মোমবাতি জালিয়ে, আলোক সজ্জা করা,
আতশ বাজি করা, বিদাত যা বিধর্মীদের কাজ।
 শবেবরাতে রাতে আলাদা কবর যিয়ারত করা
যার কোন দলিল নেই । কবর যিয়ারত কোন
নির্ধারিত টাইমে করার আলাদা কোন ফযিলত
নেই।যে কোন সময় কবর যিয়ারত করা সুন্নাহ ।
হুজু দিয়ে কোরআন খতম করানোর কোন দলিল
নেই শরিয়তে । কোরআন আপনি নিজে সহীহ
নিয়্যাতে তিলাওত করবেন তাহলে ছওয়াব
হবে, শিফা হবে,দোয়া কবুল হবে। কিন্তু শাবান
মাস উপলক্ষে বা যে কোন সময় টাকা দিয়ে
হুজুর দিয়ে কোরআন খতম করানোর কোন দলিল
নেই যা রাসূল সাঃ সাহাবাগন কোন ইমামগন
কেহ করেননি। এটা কিছু লোকের ইনকামের
একটা উপায়। একা একা নিজে সূরা ফাতিহা
থেকে নাছ পর্যন্ত পড়লে খতম হয় ।দশজন মিলে
কোরআন প্ড়লে তা খতম হয়না।
শবেবরাত উপলক্ষে অনুষ্ঠান ,সভা, সেমিনার,
মিলাদ, কিয়াম ,সমবেত যিকির ,মসজিদে
সমবেত হওয়া, হামদ নাত, মাইকিং সমপূর্ন
বিভ্রান্ত আমল যা রাসূল সা সাহাবাগন কেহ
করেননি ,যার কোন দলিল নেই ।
সে রাতে আলাদা গোসল ,হালুয়া রূটি শিন্নি
ব্ন্টন, মানুষদেরকে দাওয়াত খাওয়ানো, বিদাত
যার কোন দলিল নেই ।কিছু লোক তাদের
রোজগারের জন্য এ পন্হা আবিষ্কার করেছে।
এ রাতকে ভাগ্য রজনী মনে করা মিথ্যাচার
ছাড়া কিছু নয় ।ভাগ্য রজনী লাইলাতুল কদর যা
কোরআনে আল্লাহ বলেছেন।
সূরা দোখানের আয়াত দিয়ে এ রাতে ওয়াজ
করে এ রাতের ফযিলত বর্ণনা করা চরম
মিথ্যাচার । সকল মূফাস্সিরদের মতে সূরা
দোখান লাইলাতুল কদরের বর্ণনা করে ।
কোরআন নাযিল হয়েছে লাইলাতুল কদরে
শবেবরাতে নয়।
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﺃﻥ ﺑﺮﺃﻳﻪ
ﻓﻠﻴﺘﺒﺆ ﻣﻘﻌﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ )
রাসূল সা বলেছেন যে মনগড়া কোরআনের
তাফসির করে সে যেন জাহান্নামে ঠিকানা
বানিয়ে নেয় ।
আল্লাহ আমাদেরকে কোরআন ও সহীহ
হাদীসের আলোকে আমলের তাওফিক দান
করুন ও সকল বিদাত ও মনগড়া আমল থেকে
বেচে থাকার তাওফিক দান করুন ।

১৪ দিন শেষ হলেও ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকবেন খালেদা জিয়া

নির্ধারিত ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হোম কোয়ারেন্টিনেই থাকবেন।

বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোবাইলে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এখন সারা বিশ্বের যে অবস্থা এবং সারা দেশে এখন লকডাউনের মতো হয়ে গেছে। এইঅবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তো শতভাগ তাকে (খালেদা জিয়া) কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সেখানে উনি সেইফ আছেন। এখন উনি সম্পূর্ণ হোমকোয়ারেন্টিন পরিবেশেই থাকবেন। আমরা আশা করি, এর মধ্যেই উনি ভালো থাকবেন। যখন পরিস্থিতির সমস্যাটা কমবে তথনই পরবর্তী অবস্থার কথা আমরা চিন্তা করব।

দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ম্যাডাম যথেষ্ট অসুস্থ। এখনও ইনফ্যাক্ট ইম্প্রুভমেন্ট উনারঅসুখের খুব বেশি হয় নাই। একটা মূল বিষয় ছিল, তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা বলেছেন, দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না।

‘দেশের অভ্যন্তরে চিকিৎসা সেবার যে অবস্থা তাতে করে তো সব ডাক্তারাও সার্ভিস দিতে পারছেন না। যতটুকু পারছেন তার যে ব্যক্তিগতবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আছেন তারা তাকে দেখেছেন এবং একটা চিকিৎসা দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এর মধ্যে উনি ভালোথাকবেন।’

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামেরচিকিৎসার সব কিছু লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান তত্ত্বাবধায়ন করছেন। আজকে(বৃহস্পতিবার) উনার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হচ্ছে। এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতকরতে পারবেন।

গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ৬ মাস সাজা স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় সরকার। সেদিন বিকাল ৫ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবমেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে অসুস্থ খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় আসেন।

‘ফিরোজা’র দোতলায় খালেদা জিয়া কোয়ারেন্টিনে আছেন। সঙ্গে নার্সসহ কয়েকজন আছেন। এই ১৪ দিন কেউ নীচে নামেননি বলে জানান তার ব্যক্তিগত এই চিকিৎসক।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা রোগে ভুগছেন।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্জন কারাবাস এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হওয়া কারণে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থাখুব খারাপ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। হাত-পায়ে আর্থারাইটিজের প্রচণ্ড ব্যথার কারণে উনি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন। এই ব্যথা উপশমেরফিজিও-থেরাপি দেয়া হচ্ছে। উনার ডায়াবেটিক এখনও যথাযথ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘ এবংউন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

‘ফিরোজা’য় গেটে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ম্যাডামের বাসায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র চিকিৎসক টিমেরসদস্যবৃন্দ ও কয়েকজন নিকট আত্বীয় স্বজন আসছেন।

Wednesday, 8 April 2020

পবিত্র শবে বরাত আগামীকাল

ইসলামিক সংবা:
‘শব’ ফারসি শব্দ। অর্থ রাত বা রজনী। বরাত
শব্দটিও মূলে ফারসি। অর্থ ভাগ্য। দু’শব্দের
একত্রে অর্থ হবে, ভাগ্য-রজনী। বরাত শব্দটি
আরবি ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন। কারণ
‘বরাত’ বলতে আরবি ভাষায় কোন শব্দ নেই।
‘বারায়াত’কে যদি আরবি শব্দ ধরা হয় তাহলে
এর অর্থ হচ্ছে সম্পর্কচ্ছেদ, পরোক্ষ অর্থে
মুক্তি। যেমন কুর’আন মাজীদে সূরা বারায়াত
রয়েছে যা সূরা তাওবা নামেও পরিচিত।
ইরশাদ হয়েছেঃ
ﺑَﺮَﺍﺀَﺓٌ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻋَﺎﻫَﺪﺗُّﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ‏[ ٩ : ١ ]
সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের
পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের
সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। (সূরা
তাওবা, ১)
এখানে বারায়াতের অর্থ হল সম্পর্ক ছিন্ন
করা। ‘বারায়াত’ মুক্তি অর্থেও আল-কুর’আনে
এসেছে যেমনঃ
ﺃَﻛُﻔَّﺎﺭُﻛُﻢْ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻦْ ﺃُﻭﻟَٰﺌِﻜُﻢْ ﺃَﻡْ ﻟَﻜُﻢ ﺑَﺮَﺍﺀَﺓٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰُّﺑُﺮِ ‏[ ٥٤ : ٤٣ ]
তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের
চাইতে শ্রেষ্ঠ ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র
রয়েছে কিতাবসমূহে? (সূরা কামার, ৪৩)
আর বারায়াত শব্দটি যদি ফার্সি শব্দ ধরা হয়
তাহলে উহার অর্থ হবে সৌভাগ্য। অতএব শবে
বরাত শব্দটার অর্থ দাঁড়ায় মুক্তির রজনী,
সম্পর্ক ছিন্ন করার রজনী। অথবা সৌভাগ্যের
রাত, যদি ‘বরাত’ শব্দটিকে ফার্সি শব্দ ধরা
হয়। শবে বরাত শব্দটিকে যদি আরবিতে তর্জমা
করতে চান তাহলে বলতে হবে ‘লাইলাতুল
বারায়াত’।
এখানে বলে রাখা ভালো যে এমন অনেক শব্দ
আছে যার রুপ বা উচ্চারন আরবিও ফার্সি
ভাষায় একই রকম, কিন্তু অর্থ ভিন্ন। যেমন-
‘গোলাম’ শব্দটি উভয় ভাষায় একই রকম লিখা ও
উচ্চারন করা হয়। আরবিতে অর্থ কিশোর আর
ফার্সিতে দাস। সার কথা হল ‘বারায়াত’
শব্দটিকে আরবি শব্দ ধরা হলে উহার অর্থ
সম্পর্কচ্ছেদ বা মুক্তি। আর ফার্সি শব্দ ধরা
হলে উহার অর্থ সৌভাগ্য।
আল-কুর’আনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ
নেই
শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন
কোন আকৃতিতে শব্দটি কুর’আন মাজিদে খুঁজে
পাবেন না। সত্য কথাটাকে খুঁজে পাবেন না,
সত্য কথাটাকে সহজভাবে সহজভাবে বলতে
গেলে বলা যায় পবিত্র কুর’আন মাজিদে শবে
বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো
দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।
অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব
আলোচনা করতে যেয়ে সূরা দু’খানের প্রথম
চারটি আয়াত পাঠ করেন। আয়াতসমূহ হলঃ
ﺣﻢ ‏[ ٤٤ : ١ ] হা-মীম।
ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦِ ‏[ ٤٤ : ٢ ] শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣُّﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍۚ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ ‏[ ٤٤ : ٣ ] আমি
একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে,
নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ ‏[ ٤٤ : ٤ ] এ রাতে প্রত্যেক
প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে
বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে
বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব
যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫
শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন
বড় ভুল করেন যা আল্লাহ্র কালাম বিকৃত করার
মত অপরাধ। কারনঃ
(১) কুর’আন মাজিদের এই আয়াতের তাফসীর বা
ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই
সূরায় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ‏[ ٩٧ : ١ ] আমি একে নাযিল
করেছি লাইলাতুল-কদরে।
ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺩْﺭَﺍﻙَ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ‏[ ٩٧ : ٢ ] লাইলাতুল-কদর সম্বন্ধে
আপনি কি জানেন?
ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻦْ ﺃَﻟْﻒِ ﺷَﻬْﺮٍ ‏[ ٩٧ : ٣ ] লাইলাতুল-কদর হল
এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺍﻟﺮُّﻭﺡُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﻛُﻞِّ ﺃَﻣْﺮٍ ‏[ ٩٧ : ٤ ] এতে
প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ
অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻫِﻲَ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻣَﻄْﻠَﻊِ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ ‏[ ٩٧ : ٥ ] এটা নিরাপত্তা, যা
ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
অতএব, বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর।
লাইলাতুল বারায়াত নয়। সূরা দুখানের প্রথম
সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর।
আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুর’আনের
এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা
হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।
(২) সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকের অর্থ
যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ
দাঁড়ায় আল কুর’আন শাবান মাসের শবে বরাতে
নাজিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-
কুর’আন নাজিল হয়েছে রামাজান মাসের
লাইলাতুল কদরে। যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং
আয়াতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন
ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ রমযান মাসই হল সে
মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন।
(৩) অধিকাংশ মুফাসসিরে কিরামের মত হল
উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল
কদরকেই বুঝানো হয়েছে। শুধু মাত্র তাবেয়ী
ইকরামা (রহ.) এর একটা মত উল্লেখ করে বলা
হয় যে, তিনি বলেছেন বরকতময় রাত বলতে
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকেও বুঝানো
যেতে পারে।
তিনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে এটা তার
ব্যক্তিগত অভিমত। যা কুর’আন ও হাদিসের
বিরোধী হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। এ
বরকতময় রাতের দ্বারা উদ্দেশ্য যদি শবে বরাত
হয় তাহলে শবে কদর অর্থ নেওয়া চলবে না।
(৪) উক্ত আয়াতে বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা শবে
বরাত করা হল তাফসীর বির-রায় (মনগড়া
ব্যাখ্যা), আর বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা
লাইলাতুল কদর দ্বারা করা হল কুর’আন ও হাদিস
সম্মত তাফসীর। সকলেই জানেন কুর’আন ও
হাদিস সম্মত ব্যাখ্যার উপস্থিতিতে মনগড়া
ব্যাখ্যা (তাফসীর বির-রায়) গ্রহণ করার কোন
সুযোগ নেই।
(৫) সূরা দুখানের ৪ নং আয়াত ও সূরা কদরের ৪
নং আয়াত মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায়
যে, বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই
বুঝানো হয়েছে। সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ),
ইবনে কাসির, কুরতুবি প্রমুখ মুফাসসিরে কিরাম
এ কথাই জোর দিয়ে বলেছেন এবং সূরা
দুখানের ‘লাইলাতুম মুবারাকা’র অর্থ শবে
বরাত নেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাফসীরে মায়ারেফুল কুরআন দ্রষ্টব্য)
ইমাম কুরতুবি (রহঃ) তাঁর তাফসীরে বলেছেনঃ
“কোন কোন আলেমের রাতে ‘লাইলাতুম
মুবারাকাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল মধ্য শাবানের
রাত (শবে বরাত)।
কিন্তু এটা একটা বাতিল ধারণা।” অতএব এ
আয়াতে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ এর অর্থ
লাইলাতুল কদর। শাবান মাসের পনের তারিখ
রাত নয়।
(৬) ইকরামা (রঃ) বরকতময় রজনীর যে ব্যাখ্যা
শাবানের ১৫ তারিখ দ্বারা করেছেন তা ভুল
হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করতে হবে এমন কোন
নিয়ম-কানুন নেই। বরং তা প্রত্যাখ্যান করাই
হল হকের দাবী। তিনি যেমন ভুলের উর্ধে নন,
তেমনি যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
তারা ভুল শুনে থাকতে পারেন অথবা কোন
উদ্দেশ্য নিয়ে বানোয়াট বর্ণনা দেওয়াও
অসম্ভব নয়।
(৭) শবে বরাতের গুরুত্ব সূরা দুখানের উক্ত
আয়াত উল্লেখ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে
আকিদাহ বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, শবে বরাতে
সৃষ্টিকুলের হায়াত-মাউত, রিজিক-দৌলত
সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ও লিপিবদ্ধ করা
হয়। আর শবে বরাত উদযাপনকারীদের শতকরা
৯৯ জনের বেশি এ ধারণাই পোষণ করেন। তারা
এর উপর ভিত্তি করে লাইলাতুল কদরের চেয়ে
১৫ শাবানের রাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অথচ
কুর’আন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়গুলি
লাইলাতুল কদরের সাথে সম্পর্কিত। তাই যারা
শবে কদরের গুরুত্ব বুঝাতে উক্ত আয়াত
উপস্থাপন করেন তারা মানুষকে সঠিক ইসলামী
আকিদাহ থেকে দূরে সরানোর কাজে লিপ্ত,
যদিও মনে –প্রাণে তারা তা ইচ্ছা করেন না।
(৮) ইমাম আবু বকর আল জাসসাস তাঁর আল-
জামে লি আহকামিল কুর’আন তাফসীর গ্রন্থে
লাইলাতুন মুবারাকাহ দ্বারা মধ্য শাবানের
রাত উদ্দেশ্য করা ঠিক নয় বলে বিস্তারিত
আলোচনা করার পর বলেনঃ
লাইলাতুল কদরের ৪ টি নাম রয়েছে, তা হলঃ
লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল মুবারাকাহ,
লাইলাতুল বারাআত ও লাইলাতুস সিক।
(আল জামে লি আহকামিল কুরআন, সূরা আদ-
দুখানের তাফসীর দ্রষ্টব্য)
লাইলাতুল বারাআত হল লাইলাতুল কদরের
একটি নাম। শাবান মাসের ১৫ তারিখের
রাতের নাম নয়। ইমাম শাওকানি (রহঃ) তাঁর
তাফসীর ফতহুল কাদিরে একই কথাই লিখেছেন।
(তাফসীর ফাতহুল কাদির: ইমাম শাওকানি
দ্রষ্টব্য)
এ সকল বিষয় জেনে বুঝেও যারা ‘লাইলাতুল
মুবারাকা’র অর্থ করবেন শবে বরাত, তারা
সাধারণ মানুষের গোমরাহ করা এবং আল্লাহ্র
কালামের অপব্যাখ্যা করার দায়িত্ব এড়াতে
পারবেন‘শব’ ফারসি শব্দ। অর্থ রাত বা রজনী। বরাত
শব্দটিও মূলে ফারসি। অর্থ ভাগ্য। দু’শব্দের
একত্রে অর্থ হবে, ভাগ্য-রজনী। বরাত শব্দটি
আরবি ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন। কারণ
‘বরাত’ বলতে আরবি ভাষায় কোন শব্দ নেই।
‘বারায়াত’কে যদি আরবি শব্দ ধরা হয় তাহলে
এর অর্থ হচ্ছে সম্পর্কচ্ছেদ, পরোক্ষ অর্থে
মুক্তি। যেমন কুর’আন মাজীদে সূরা বারায়াত
রয়েছে যা সূরা তাওবা নামেও পরিচিত।
ইরশাদ হয়েছেঃ
ﺑَﺮَﺍﺀَﺓٌ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻋَﺎﻫَﺪﺗُّﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ‏[ ٩ : ١ ]
সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের
পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের
সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। (সূরা
তাওবা, ১)
এখানে বারায়াতের অর্থ হল সম্পর্ক ছিন্ন
করা। ‘বারায়াত’ মুক্তি অর্থেও আল-কুর’আনে
এসেছে যেমনঃ
ﺃَﻛُﻔَّﺎﺭُﻛُﻢْ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻦْ ﺃُﻭﻟَٰﺌِﻜُﻢْ ﺃَﻡْ ﻟَﻜُﻢ ﺑَﺮَﺍﺀَﺓٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺰُّﺑُﺮِ ‏[ ٥٤ : ٤٣ ]
তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের
চাইতে শ্রেষ্ঠ ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র
রয়েছে কিতাবসমূহে? (সূরা কামার, ৪৩)
আর বারায়াত শব্দটি যদি ফার্সি শব্দ ধরা হয়
তাহলে উহার অর্থ হবে সৌভাগ্য। অতএব শবে
বরাত শব্দটার অর্থ দাঁড়ায় মুক্তির রজনী,
সম্পর্ক ছিন্ন করার রজনী। অথবা সৌভাগ্যের
রাত, যদি ‘বরাত’ শব্দটিকে ফার্সি শব্দ ধরা
হয়। শবে বরাত শব্দটিকে যদি আরবিতে তর্জমা
করতে চান তাহলে বলতে হবে ‘লাইলাতুল
বারায়াত’।
এখানে বলে রাখা ভালো যে এমন অনেক শব্দ
আছে যার রুপ বা উচ্চারন আরবিও ফার্সি
ভাষায় একই রকম, কিন্তু অর্থ ভিন্ন। যেমন-
‘গোলাম’ শব্দটি উভয় ভাষায় একই রকম লিখা ও
উচ্চারন করা হয়। আরবিতে অর্থ কিশোর আর
ফার্সিতে দাস। সার কথা হল ‘বারায়াত’
শব্দটিকে আরবি শব্দ ধরা হলে উহার অর্থ
সম্পর্কচ্ছেদ বা মুক্তি। আর ফার্সি শব্দ ধরা
হলে উহার অর্থ সৌভাগ্য।
আল-কুর’আনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ
নেই
শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন
কোন আকৃতিতে শব্দটি কুর’আন মাজিদে খুঁজে
পাবেন না। সত্য কথাটাকে খুঁজে পাবেন না,
সত্য কথাটাকে সহজভাবে সহজভাবে বলতে
গেলে বলা যায় পবিত্র কুর’আন মাজিদে শবে
বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো
দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।
অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব
আলোচনা করতে যেয়ে সূরা দু’খানের প্রথম
চারটি আয়াত পাঠ করেন। আয়াতসমূহ হলঃ
ﺣﻢ ‏[ ٤٤ : ١ ] হা-মীম।
ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦِ ‏[ ٤٤ : ٢ ] শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣُّﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍۚ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ ‏[ ٤٤ : ٣ ] আমি
একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে,
নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ ‏[ ٤٤ : ٤ ] এ রাতে প্রত্যেক
প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে
বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে
বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব
যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫
শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন
বড় ভুল করেন যা আল্লাহ্র কালাম বিকৃত করার
মত অপরাধ। কারনঃ
(১) কুর’আন মাজিদের এই আয়াতের তাফসীর বা
ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই
সূরায় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ‏[ ٩٧ : ١ ] আমি একে নাযিল
করেছি লাইলাতুল-কদরে।
ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺩْﺭَﺍﻙَ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ‏[ ٩٧ : ٢ ] লাইলাতুল-কদর সম্বন্ধে
আপনি কি জানেন?
ﻟَﻴْﻠَﺔُ ﺍﻟْﻘَﺪْﺭِ ﺧَﻴْﺮٌ ﻣِّﻦْ ﺃَﻟْﻒِ ﺷَﻬْﺮٍ ‏[ ٩٧ : ٣ ] লাইলাতুল-কদর হল
এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
ﺗَﻨَﺰَّﻝُ ﺍﻟْﻤَﻠَﺎﺋِﻜَﺔُ ﻭَﺍﻟﺮُّﻭﺡُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺭَﺑِّﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﻛُﻞِّ ﺃَﻣْﺮٍ ‏[ ٩٧ : ٤ ] এতে
প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ
অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
ﺳَﻠَﺎﻡٌ ﻫِﻲَ ﺣَﺘَّﻰٰ ﻣَﻄْﻠَﻊِ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ ‏[ ٩٧ : ٥ ] এটা নিরাপত্তা, যা
ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
অতএব, বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর।
লাইলাতুল বারায়াত নয়। সূরা দুখানের প্রথম
সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর।
আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুর’আনের
এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা
হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।
(২) সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকের অর্থ
যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ
দাঁড়ায় আল কুর’আন শাবান মাসের শবে বরাতে
নাজিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-
কুর’আন নাজিল হয়েছে রামাজান মাসের
লাইলাতুল কদরে। যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং
আয়াতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেন
ﺷَﻬْﺮُ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ রমযান মাসই হল সে
মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন।
(৩) অধিকাংশ মুফাসসিরে কিরামের মত হল
উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল
কদরকেই বুঝানো হয়েছে। শুধু মাত্র তাবেয়ী
ইকরামা (রহ.) এর একটা মত উল্লেখ করে বলা
হয় যে, তিনি বলেছেন বরকতময় রাত বলতে
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকেও বুঝানো
যেতে পারে।
তিনি যদি এটা বলে থাকেন তাহলে এটা তার
ব্যক্তিগত অভিমত। যা কুর’আন ও হাদিসের
বিরোধী হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। এ
বরকতময় রাতের দ্বারা উদ্দেশ্য যদি শবে বরাত
হয় তাহলে শবে কদর অর্থ নেওয়া চলবে না।
(৪) উক্ত আয়াতে বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা শবে
বরাত করা হল তাফসীর বির-রায় (মনগড়া
ব্যাখ্যা), আর বরকতময় রাতের ব্যাখ্যা
লাইলাতুল কদর দ্বারা করা হল কুর’আন ও হাদিস
সম্মত তাফসীর। সকলেই জানেন কুর’আন ও
হাদিস সম্মত ব্যাখ্যার উপস্থিতিতে মনগড়া
ব্যাখ্যা (তাফসীর বির-রায়) গ্রহণ করার কোন
সুযোগ নেই।
(৫) সূরা দুখানের ৪ নং আয়াত ও সূরা কদরের ৪
নং আয়াত মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায়
যে, বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই
বুঝানো হয়েছে। সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ),
ইবনে কাসির, কুরতুবি প্রমুখ মুফাসসিরে কিরাম
এ কথাই জোর দিয়ে বলেছেন এবং সূরা
দুখানের ‘লাইলাতুম মুবারাকা’র অর্থ শবে
বরাত নেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাফসীরে মায়ারেফুল কুরআন দ্রষ্টব্য)
ইমাম কুরতুবি (রহঃ) তাঁর তাফসীরে বলেছেনঃ
“কোন কোন আলেমের রাতে ‘লাইলাতুম
মুবারাকাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল মধ্য শাবানের
রাত (শবে বরাত)।
কিন্তু এটা একটা বাতিল ধারণা।” অতএব এ
আয়াতে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ এর অর্থ
লাইলাতুল কদর। শাবান মাসের পনের তারিখ
রাত নয়।
(৬) ইকরামা (রঃ) বরকতময় রজনীর যে ব্যাখ্যা
শাবানের ১৫ তারিখ দ্বারা করেছেন তা ভুল
হওয়া সত্ত্বেও প্রচার করতে হবে এমন কোন
নিয়ম-কানুন নেই। বরং তা প্রত্যাখ্যান করাই
হল হকের দাবী। তিনি যেমন ভুলের উর্ধে নন,
তেমনি যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
তারা ভুল শুনে থাকতে পারেন অথবা কোন
উদ্দেশ্য নিয়ে বানোয়াট বর্ণনা দেওয়াও
অসম্ভব নয়।
(৭) শবে বরাতের গুরুত্ব সূরা দুখানের উক্ত
আয়াত উল্লেখ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে
আকিদাহ বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, শবে বরাতে
সৃষ্টিকুলের হায়াত-মাউত, রিজিক-দৌলত
সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ও লিপিবদ্ধ করা
হয়। আর শবে বরাত উদযাপনকারীদের শতকরা
৯৯ জনের বেশি এ ধারণাই পোষণ করেন। তারা
এর উপর ভিত্তি করে লাইলাতুল কদরের চেয়ে
১৫ শাবানের রাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অথচ
কুর’আন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়গুলি
লাইলাতুল কদরের সাথে সম্পর্কিত। তাই যারা
শবে কদরের গুরুত্ব বুঝাতে উক্ত আয়াত
উপস্থাপন করেন তারা মানুষকে সঠিক ইসলামী
আকিদাহ থেকে দূরে সরানোর কাজে লিপ্ত,
যদিও মনে –প্রাণে তারা তা ইচ্ছা করেন না।
(৮) ইমাম আবু বকর আল জাসসাস তাঁর আল-
জামে লি আহকামিল কুর’আন তাফসীর গ্রন্থে
লাইলাতুন মুবারাকাহ দ্বারা মধ্য শাবানের
রাত উদ্দেশ্য করা ঠিক নয় বলে বিস্তারিত
আলোচনা করার পর বলেনঃ
লাইলাতুল কদরের ৪ টি নাম রয়েছে, তা হলঃ
লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল মুবারাকাহ,
লাইলাতুল বারাআত ও লাইলাতুস সিক।
(আল জামে লি আহকামিল কুরআন, সূরা আদ-
দুখানের তাফসীর দ্রষ্টব্য)
লাইলাতুল বারাআত হল লাইলাতুল কদরের
একটি নাম। শাবান মাসের ১৫ তারিখের
রাতের নাম নয়। ইমাম শাওকানি (রহঃ) তাঁর
তাফসীর ফতহুল কাদিরে একই কথাই লিখেছেন।
(তাফসীর ফাতহুল কাদির: ইমাম শাওকানি
দ্রষ্টব্য)
এ সকল বিষয় জেনে বুঝেও যারা ‘লাইলাতুল
মুবারাকা’র অর্থ করবেন শবে বরাত, তারা
সাধারণ মানুষের গোমরাহ করা এবং আল্লাহ্র
কালামের অপব্যাখ্যা করার দায়িত্ব এড়াতে
পারবেন না।

বাড়িতে বাড়িতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান-পুলিশ সুপার

মুফিজুর রহমান নাহিদ :
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেছেন, নোবেল করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারী। সারা বিশ্বে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে মৃত্যুর মিছিল চলছে। এর প্রাদুর্ভাব থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে সারাদেশে সরকারি ভাবে বিভিন্ন বাঁধা নিষেধ জারি করেছেন।করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের সবাইকে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সে ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে এই মহামারী সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে, তখন পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাবে। তিনি আরো বলেন, করোনা থেকে জনগণকে সচেতন ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য সিলেট জেলা পুলিশের অর্ন্তভুক্ত সকল থানা পুলিশ দিনরাত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিদিন জেলা পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাতে করে জনসাধারণ লকডাউন মেনে চলেন এজন্য মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সিলেটের সকল গুরুত্বপূর্ণ থানা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোবাইল কোর্টে জেল-জরিমানা এবং বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার ও প্রবাস ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে পুলিশের কঠোর নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।পুলিশ সুপার আরো বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। সিলেটের মানুষ যাতে করে প্রাণঘাতী এ মহামারী থেকে রক্ষা পেতে পারেন এজন্য লকডাউন মেনে অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া যাতে করে কেউ ঘর থেকে বের হতে না পারেন এজন্য পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কেউ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এই দুর্যোগ মুুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি জেলা পুলিশ এবং জেলার অধিনস্থ সকল থানা পুলিশ ঘরবন্দী, অসহায়, দিনমজুর মানুষের হাতে সাধ্য অনুযায়ী খাদ্য তুলে দেয়ার জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম আরো বলেন, সরকারী নির্দেশনা মেনে এখন থেকে সিলেট জেলায় কোন ধরনের গণজমায়েত করে কেউ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে পারবেন না।বাড়িতে বাড়িতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করে যাবে। প্রয়োজনে দানশীল ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন থানা পুলিশের কাছে তাদের অনুদানের খাদ্য সামগ্রী দিতে পারেন সেটা আমরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেব। তিনি সবাইকে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান, অন্যথায় এখন থেকে পুলিশ আরো কঠোর হবে। পুলিশ সুপার আজ বুধবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট থানা পুলিশের উদ্যোগে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসা মাঠে ৬০টি অসহায়-হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল বিতরণ কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এছাড়া পুলিশ সুপার কানাইঘাটের বেদ পল্লী এবং পৌরসভার রায়গড় গ্রামের বেশ কয়েকটি দরিদ্র পরিবারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
পরবর্তীতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সব মিলিয়ে ৫’শত পরিবারে এসব খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিবে টীম কানাইঘাট থানার সদস্যরা। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম’র সাথে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দক্ষিণ ইমাম মোহাম্মদ সাদিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর হেডকোয়ার্টার লুৎফুর রহমান, কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম.এ হান্নান, পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম, ওসি তদন্ত আনোয়ার জাহিদ, দারুল মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাও. আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম জানিয়েছেন, আজ প্রায় দেড়শ পরিবারের পুলিশ সুপার স্যার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন।পর্যায়ক্রমে উপজেলার একেবারে অসহায় দরিদ্রদের চিহ্নিত করে আমরা আরো সাড়ে ৩’শ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিবো। তিনি বলেন, পুলিশ তার সাধ্যনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আমাদের শ্রমজীবি ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাবো আপনারা এই দুর্যোগ মুহুর্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন।

নতুন আইজিপির কাছে বিএমএসএফ'র দাবি পুলিশ কর্তৃক আর কোন সাংবাদিক নির্যাতন নয়



একসময়ের সাংবাদিক-পুলিশ ভাই-ভাই। এই চিত্রটি প্রবাদটি বাস্তবে দেখতে চান সাংবাদিকরা। নতুন আইজিপি জনাব বেনজীর আহমেদ মহোদয়ের নিকট বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের দাবি পুলিশ কর্তৃক দেশের কোথাও নতুন আর কোন সাংবাদিক যেন নির্যাতন, হয়রাণী কিংবা লাঞ্ছিতের শিকার না হন।
দূর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুন্দর সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিএমএসএফ'র কৃতজ্ঞতা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিশ্বাস করে পুলিশ-সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজের সকল অন্যায়-অনিয়ম, দূর্নীতি-অপরাধের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হলে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা প্রতিষ্ঠিত হতে বেশি সময় লাগবেনা। বিএমএসএফ চায় সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত একটি আগামির বাংলাদেশ।
আপনার এ অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের প্রতিটি নেতাকর্মী পুলিশের পাশাপাশি আপনজন হয়ে কাজ করবেন।
আপনার মুখ থেকে এরকম একটি বাণীটি শুনতে চাই ' দেশে পুলিশ কর্তৃক আর কোন সাংবাদিক নির্যাতন দেখতে চাইনা'- আইজিপি।

বিশ্ব ক্রীড়া জগতে করোনার প্রভাব

ইউনাইটেড ফর আর্জেন্টিনা’ নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন অ্যাথলিটরা। ফুটবলার থেকে শুরু করে হকি, বাস্কেটবল, টেনিস খেলোয়াড়রা ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তাদের সমর্থকদের। সেখানে, করোনা প্রতিরোধে ঘরে থাকার আহ্বান করেন তারা। এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে লিগ বন্ধ থাকায় দেশে ফিরে নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন কোরিয়ান ফুটবলার সন হিউ মিন। আর করোনার প্রভাবে চাকরি হারালেন আরব আমিরাতের কোচ ইভান ইয়াভানোভিচ।
ইমানূয়েল নোবিলি, লিওনেল মেসি, সার্জিও অ্যাগুয়েরো, মার্টিন ডেলপোর্ট কিংবা লুসিয়ানা আয়মার। নামগুলো কি পরিচিত লাগছে? ওহ, নাম আরো একটা আছে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। আর্জেন্টিনা ফুটবল নিয়ে টুকটাক খবর রাখেন, এমন যে কেউই চিনে যাবেন সবাইকে।
ইমানুয়েল আর আয়মারের নামটা অপরিচিত লাগাটা স্বাভাবিক। তাদের ইভেন্ট দুটি এখনো ততটা জনপ্রিয় নয় বাংলাদেশে। তবে, আর্জেন্টিনাতে স্টারডামে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই তারাও। একজন বাস্কেটবল, আরেকজন নারী হকিতে দেশটির কিংবদন্তীতুল্য। আর মার্টিন ডেলপোর্ট তো টেনিস কোর্টের পরিচিত এক নাম।
করোনাভাইরাস ভাবিয়ে তুলেছে এ সুপারস্টারদেরও। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এরা সবাই, এবার দাঁড়িয়েছেন এক ছাতার নীচে। শুরু করেছেন, ইউনাইটেড ফর আর্জেন্টিনা ক্যাম্পেইন। সেখান সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন এই তারকারা। দিয়েছেন নানা পরামর্শ।
এ মুহূর্তে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে আলবেসিলেস্তাদের দেশে। ১৬২৮ জন আক্রান্ত হলেও, সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৩২৫ জন। গুরুতর অবস্থায় মৃত্যূর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরো ৯৪ জন। দেশের এ ভয়াবহ অবস্থায়, সবাইকে ঘরে থেকে করোনা প্রতিরোধে সরকারকে সাহায্য করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি, গৃহহীন-নিম্নবিত্ত মানুষের খাবারের জন্য সাহায্য প্রার্থনাও করেছেন অনেকে।
সময়টা আতঙ্কিত হওয়ার মতো হলেও, মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে সমর্থক এবং দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা অ্যাথলিটরা।
করোনার কারণে নেই কোন খেলাধুলা। নেই অনুশীলন, কিংবা সূচির ব্যস্ততা। শরীর ফিট রাখতে তাই নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে নৌবাহিনীতে যোগ দিলেন টটেনহামের ফুটবলার সন হিউ মিন। ২০ এপ্রিল থেকে ভলকানিক জেজু দ্বীপে নবম মেরিন ব্রিগেডে যোগ দিবেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পার কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের বাধ্যতামূলক ২১ মাস সশস্ত্র বাহিনীর ট্রেনিং নিতে হয়। তবে, ২০১৮ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের পর, এ নিয়ম থেকে নিস্তার পেয়েছিলেন সন হিউ মিন।
কোভিড-১৯ এর কারণে এবার চাকরি হারালেন আরব আমিরাতের সার্বিয়ান কোচ ইভান ইয়োভানোভিচ। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ডাগ আউটে দাঁড়ানোর সুযোগটাও পেলেন না তিনি। নিজেদের ওয়েবসাইটে সংবাদটির সত্যতা স্বীকার করেছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
তার সঙ্গে ৬ মাসের চুক্তি ছিলো আরব আমিরাতের। কিন্তু, ফিফার পক্ষ থেকে জুন পর্যন্ত সকল খেলা স্থগিত করার কারণে, আপাতত আর কোচ প্রয়োজন নেই আমিরাতের।
নেইমার বার্সেলোনা নাটকে এবার নতুন চরিত্রের আগমন ঘটলো। স্পেনের বিশ্বকাপ এবং ইউরো জয়ী কোচ ভিসেন্তে ডেল বক্স। নেইমারকে না কেনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বর্ষিয়ান এ ফুটবল গুরু। তার মতে, কাতালান ক্লাবটি থেকে নেইমার যেভাবে চলে গিয়েছিলো, তা খুবই অসম্মানজনক ছিলো বার্সেলোনা ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য।
সূত্র:সময়টিভি

ওবায়দুল কাদেরকে বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,,

মফস্বলটিভি :আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নোয়াখালী জেলার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তার এ নির্দেশের কথা জানান। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে
কথা বলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও সিভিল সার্জন মুমিনুর রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের থাকতে পারতেন। কিন্তু তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আমি তাকে বাইরে বের হতে না করেছি।’ নোয়াখালী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসয় সরকারপ্রধান করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিস্তারিত তথ্য শোনেন এবং দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ মার্চ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেসময় পরীক্ষায় তার করোনারি আর্টারিতে ব্লক পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। গত বছরের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট
এলিজাবেথ হাসপাতালে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়।কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নোয়াখালী জেলার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তার এ নির্দেশের কথা জানান।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও সিভিল সার্জন মুমিনুর রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের থাকতে পারতেন। কিন্তু তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি তাকে বাইরে বের হতে না করেছি।’ নোয়াখালী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় সরকারপ্রধান করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিস্তারিত তথ্য শোনেন এবং দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ মার্চ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেসময় পরীক্ষায় তার করোনারি আর্টারিতে ব্লক পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।
সূত্র:এখন বাংলা 

Tuesday, 7 April 2020

১৪ দিনের মধ্যে সব কর্মচারীদের মোবাইল একাউন্ট খোলার নির্দেশ


জাতীয়:করোনা
ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-
ভাতা পরিশোধের জন্য মোবাইল একাউন্ট খোলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা এবং বেতন-ভাতাদি এই হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এবং সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার এর
প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে সচল
রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারীদের মোবাইল একাউন্ট নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে
এই একাউন্টের মাধ্যমে বেতন ভাতা এবং সরকারি প্রণোদনা পরিশোধ করা যায়।
এজন্য শ্রমিক অথবা কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হবে।
তবে এই হিসাব খোলার জন্য কোন ধরনের চার্জ বা ফি কাটা হবে না।
এই হিসাব খোলার জন্য উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রচারণাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ইত্তেফাক/

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে চব্বিশ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৫ জনের মৃত্যু

গত চব্বিশ ঘণ্টায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে।
নতুন যারা মারা গেছেন তাদের বয়স ৪১ থেকে ৬০এর মধ্যে।
এদের দুজন ঢাকার বাসিন্দা। বাকিরা ঢাকার বাইরের।
চারজন পুরুষ একজন নারী।
এই সময়ের মধ্যে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৪১ জন । যা এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১৬৪ জন।
৪১ জনের মধ্যে ১৫ জন নারায়নগঞ্জের বাসিন্দা।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এর নিয়মিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র বিবিসি

বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন(অব.) মাজেদ গ্রেফতার


বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুস মাজেদকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টার দিকে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ মাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ক্যাপ্টেন মাজেদ দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায় জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে (অব.) গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি (সিটিটিসি) মিরপুর সাড়ে এগারো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ইতোমধ্যেই তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তারা হলেন- লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি) ও লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার)।

এছাড়ও এখনো ১২ জনের মধ্যে ৫ জন বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। পলাতকরা হলেন- কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল এসএইচ নূর চৌধুরী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে শিশুসন্তান রাসেল, স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মামলা হয়। বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

১৯৭৫ সালের ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে আসামি করা হয় ২৪ জনকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
সূত্র সময় টিভি।

আইসোলেশনের জন্য দুইশত লঞ্চ দেওয়ার প্রস্তাব মালিকদের

মফস্বল টিভি মহামারি সংবাদ:দেশের
করোনা ভাইরাসে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে লকডাউনে অলস পড়ে থাকা দুইশত তিনতলা বিলাশ বহুল লঞ্চ দুর্গম এলাকায় আইসোলেশনের জন্য মালিকরা তাদের লঞ্চ দিতে নৌ মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছেন।

এতথ্য জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক সমিতির কর্মকর্তা ও এম ভি পারাবত লঞ্চ কোম্পানির মালিক শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি জানা, এই লঞ্চগুলিতে প্রায় ৮০ হাজার লোককে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। সরকার চাইলে যেকোন সময়ে তাদের দুইশত লঞ্চ দিতে প্রস্তুত রয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

লঞ্চ মালিক সমিতির এই প্রস্তাব নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠিয়েছেন।

লঞ্চ মালিকদের এই সিদ্ধান্তকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাধুবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর লঞ্চ মালিকদের এই প্রস্তাব আমলে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র-ইত্তেফাক

মোদির কাছে করোনার ওষুধ চাইলেন ট্রাম্প

করোনার প্রাদুর্ভাবে স্থবির গোটা বিশ্ব।

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রও খাবি খাচ্ছে এই ভাইরাসে। দিশেহারা হয়েই কিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির কাছে ওষুধ চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ করার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

করোনা চিকিত্‍সায় কার্যকরী ফল দিয়েছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। ভারত থেকে এই ওষুধ আমদানি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে দিল্লির সঙ্গে কথা হয়েছে পেন্টাগনের।

শনিবার এমনটাই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তাঁরাও।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভারতে বিপুল পরিমাণে এই ওষুধ তৈরি হয়। সেখানে এই ওষুধের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি ভারতকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পরপরই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার। অবশ্য দেশটির সরকার এটাও বলেছে যে,

এখন থেকে শুধু মানবিক কারণে এবং আপত্কালীন প্রয়োজনেই এই ওষুধ রফতানি করা যাবে।

সুতরাং মানবিক কারণে ওষুধ পাওয়ার আশা করতেই পারেন ট্রাম্প