Wikipedia

Search results

Showing posts with label মিডিয়া. Show all posts
Showing posts with label মিডিয়া. Show all posts

Tuesday, 1 September 2020

লাইভ চলাকালে সাংবাদিককে বাঁধা ও লাঞ্ছিত: বিএমএসএফ’র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ



 ময়মনসিংহে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাঁধা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। হামলা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারেরও দাবি করা হয়।

এক সংবাদ বিবৃতিতে বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর শাস্তি দাবি করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, দূর্ণীতিবাজদের পথেরদাবী কাটা কেবল সাংবাদিকরা। এই সাংবাদিকদের স্তব্ধ করে দিতে পারলেই রাষ্ট্রকে লুটপুটে খেতে আর বাঁধা দেয়ার কেউ থাকবেনা। প্রাপ্ততথ্যে জানাগেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার নূন্যতম সেবা বলতে কিছু নেই। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে সেবা। স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সিন্ডিকেট কোনভাবেই চলতে পারেনা। ঐ খবর প্রচার করতেই সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলো। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারকে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট নিউজ ২৪ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ময়মনসিংহে কর্মরত সৈয়দ নোমান সোমবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পেশাগত কাজে। সকাল সোয়া ১০ টার দিকে ভবনের সামনে থেকে করোনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার আপডেট জানিয়ে টেলিভিশনে লাইভ দেয়ার সময় তাকে বাঁধা দেয় আবুল কালাম আজাদ নামে এক লোক।

এসময় সে আজাদ নিজেকে হাসপাতালের আউটসোর্সিং এর ডিরেক্টর পরিচয় দিয়ে লাইভ করতে নিষেধ করে। যা ঠিক লাইভ শুরু করার আগ মূহুর্তে। এসময় সাংবাদিক নোমান পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে প্রতিকূলতা কাটিয়ে লাইভটি শেষ করেন। পরে কালামের কাছে কাজে বাঁধা প্রদান করার কারন জানতে চান।

এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক সমাজকে নিয়ে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করেন। জানতে চান কার অনুমতি নিয়ে লাইভ করা হচ্ছে? এক পর্যায়ে ক্যামেরাকে নিয়েও টানা হেঁচড়া করে সিফাত নামের আরেক সুপারভাইজার। দীর্ঘক্ষণ শ্বাসানোর পর তারা হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাবার চেষ্টা চালায় নোমান এবং নিউজ টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরা পার্সন শৈবাল দাসকে।

ঘটনার শুরুতেই নোমান বিষয়টি হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে অবগত করলে সেখান থেকেও অবহেলিত হন। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ ধৈর্যবান হয়ে হেনস্থাই মাথা পেতে নিয়ে সেবার আশ্রয়স্থল থেকে ফিরে আসেন সাংবাদিকরা।

এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি দেশব্যাপী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেয়া হয়।

Saturday, 15 August 2020

সাংবাদিকতার সোর্সকে আজ উলঙ্গ করা হচ্ছে..



আজকাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতার সোর্সকে উলঙ্গ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিলেই সোর্সকে নিরাপত্তাহীন করে তোলা হচ্ছে। যা রীতিমত সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা পরিপন্থী। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন সাংবাদিকদের তার সোর্স বা স্বাক্ষীসহ উপস্থিত হয়ে তথ্য প্রদান কিংবা জবাব দিতে প্রস্তুত কিনা সেটিই মূখ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অহরহ বিভিন্ন জেলায় ধরনের নোটশ সাংবাদিকদের কাছে আসছেই। সম্প্রতি দুদকে অনুরুপ নোটিশ দেয়ারপর সাংবাদিক সংগঠনের তোপের মুখে চিঠি প্রত্যাহার করতেও বাধ্য হয়েছিলেন। 

এ ধরনের কার্যকলাপের তীব্র বিরোধীতা করছে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। 

গণমাধ্যমকে নিয়ে এসব কী হচ্ছে? দূর্ণীতিবাজরা গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরতেই নিত্য নতুন ফন্দি শুরু করছে দূর্ণীতির বরপুত্ররা ।

 সেটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ছিল; যখন সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করতো। জনগণ সুফল পেত। আর এখন সংবাদ প্রকাশের পর উল্টো সাংবাদিককে হয়রাণীর জন্য তার সোর্সসহ প্রশাসনের নিকট টাইম টেবিলমত হাজির হতে বলা হয়। যেন সাংবাদিকরা তার অধস্তন চাকরীজীবি।  যা নির্মম দূ:খ এবং হতাশাজনক।

যদ্দুর জানাযায়, সাংবাদিকরা নিশ্চিত মৃত্যুর কাছে হার মানবে অথচ তার সোর্সের নাম প্রকাশ করবেন না। কিন্তু প্রশাসন কি শুরু করলো? নোটিশ দিয়ে সোর্স সহ হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হল লালমনিরহাটের বাংলা নিউজের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি খোরশেদ আলম সাগরকে। যেখানে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করে ওসির ঘুষ গ্রহনের সংবাদের অডিও- ভিডিও ভাইরাল ইতিমধ্যে। তবুও ওসি মাহফুজ আলমকে ঢাকায় ষ্ট্যান্ড রিলিজ করে সম্মান বড় করা হয়েছে। এ ধরনের অপকর্ম করার পর তাকে খাগড়াছড়ি কিংবা বান্দরবানে না পাঠিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে তার ওজন আরেকদফা বাড়িয়ে দেয়া হল নয় কি! জেলা পুলিশ প্রধান আবিদা সুলতানার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিক খোরশেদ আলম সাগরের ব্যক্তিনামে তাকে নোটিশ করা হয়। আগামিকাল ১৬ আগস্ট তাকে তথ্যপ্রমানসহ হাজির হতে বলা হয়।

 তারপরও কেন সাংবাদিকতার মাথা খেতে তার সোর্স আপনার নিকট উপস্থাপন করতে হবে? সাংবাদিকরা আপনার নিকট তার সোর্স উপস্থাপন করতে বাধ্য নন। আপনি প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই-বাছাই করুন। পারলে ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করুন এবং শাস্তি দিন। জানি পারবেন কিনা! কারন তার আয়ের ওপর আপনাকে চলতে হয়। 

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইত্তেফাক ও মাইটিভি প্রতিনিধি আসাদ উল্লাহ মাদকে সয়লাব গজারিয়া শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের জেরধরে নারায়নগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: মোস্তাফিজুর রহমান গত ৪ আগস্ট অনুরুপ একখানা  নোটিশ পাঠিয়েছেন। 
নোটিশ অনুযায়ী তাকে নিজ খরচে কোরবানী ঈদের দুদিন আগে ৮০ কিলোমিটার যানজট ডিঙ্গিয়ে একজন এএসআইর সাথে নারায়নগঞ্জে এবং নরসিংদীতে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। কি আশ্চয্য! অভিযুক্ত পুলিশের সঙ্গে একই টেবিলে সাক্ষ্য দিতে হয়েছিল সাংবাদিক আসাদ উল্লাহকে। পুলিশের পক্ষ থেকে সোর্সের নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এখন অদৃশ্য কারনে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে আসাদ বিএমএসএফকে নিশ্চিত করেছেন। অথচ সেই অভিযুক্ত পুলিশের কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। 

এখন প্রশ্ন সংবাদ প্রকাশের পর কেনো সাংবাদিককে নোটিশ দিয়ে হাজির হতে বলা হলো? সাংবাদিকরাতো সংবাদ প্রকাশই করে ফেলেছেন, তা তদন্ত করুন। সত্য মিথ্যা যাচাই করুন। সংবাদের ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি থাকলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের স্মরনাপন্ন কিংবা সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে অভিযোগ করতে পারেন। সাংবাদিকরা আজকের ঘটনা তদন্ত করে কালকেই সংবাদ প্রকাশ করে ফেলেন। অন্যসব দপ্তরের মত বছরের পর বছর ফাইল অাটকে সাংবাদিকরা অনৈতিক দাবি করেন না। 

আমরা মনে করছি, গণমাধ্যমকে কোনঠাসা করতেই প্রশাসনেরই যত আয়োজন। মনে রাখবেন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। আর আপনারা সেই রাষ্ট্রের পাহারাদার। এটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। যা ইচ্ছে তা করার সুযোগ নেই। তাইতো ওসি প্রদীপদের হাতে আজ হাতকড়া। এটি কেবলই বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও তাঁরকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কারনেই তা সম্ভব হয়েছে।

তাই আসুন, আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। তাই শপথ নিন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা সত্যিকার প্রতিষ্ঠা করতে সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত একটি আগামির বাংলাদেশের বিকল্প নেই। 

লেখক: আহমেদ আবু জাফর, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সমন্বয়কারী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, ১৫ আগস্ট ২০২০ যোগাযোগ: ০১৭১২৩০৬৫০১।

Tuesday, 14 July 2020

বিএমএসএফ'র জন্মদিনের শুভেচ্ছা




নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে বিএমএসএফ ১৫ জুলাই ৮ পেরিয়ে নয় বছরে পদার্পণ করেছে। পথচলার এই শুভক্ষণে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে দেশবাসী, প্রিয় সহযোদ্ধা সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি রইল হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।
প্রিয় সাংবাদিক সহযোদ্ধা বন্ধুগণ। আপনারা বিএমএসএফ এর ১৪ দফা দাবির প্রতি বিশ্বাস রাখুন। সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। এই ১৪ দফা দাবি একজন সাংবাদিকের পেটের ক্ষুধা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা রক্ষাকবচ।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব শহীদুল ইসলাম পাইলট এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর দেশের সকল সাংবাদিকদের এই ক্রান্তিকালে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএমএসএফ এর নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের দাবি এবং অধিকার আদায়ে ১৪ দফা দাবির কোন বিকল্প নেই। এই ১৪ দফা দাবিই হতে পারে সাংবাদিকদের আগামী দিনের একমাত্র অবলম্বন।
এবছর মহামারী করোনার কারনে বিএমএসএফ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীরর সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত রাখা হয়েছে। বিএমএসএফ এর বিগত ৮বছরের এই পথ চলায় সারা বাংলাদেশের ১৫ হাজার সংবাদকর্মী, তিন শতাধিক জেলা-উপজেলা় শাখা এবং পাঁচটি বৈদেশিক শাখার মাধ্যমে বিএমএসএফ পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৩ সালের সালের ১৫ জুলাই সারাদেশের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ধীরে ধীরে সংগঠনটি আজ হাজার হাজার সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠনের রূপ নিয়েছে। বিএমএসএফ আজ সাংবাদিকদের আস্থার প্রতীক। নির্যাতিত সাংবাদিকদের ভরসাস্থল। যেখানে নির্যাতন সেখানেই বিএমএসএফ।
ইতিমধ্যে বিএমএসএফ এর চৌদ্দ দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং বিভিন্ন সংগঠন এই চৌদ্দ দফা কে সমর্থন করে। বিএমএসএফ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের দাবি করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের। এই নিয়োগ নীতিমালা প্রণীত হলে হলুদ কিংবা অপসাংবাদিকতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সংস্কার বিএমএসএফ এর অন্যতম একটি দাবি।
এবছর বিএমএসএফ’র সকল শাখাকে শুধু গাছ লাগাতে সকল শাখাসমুহের নেতৃবৃন্দকে আহবান জানানো হয়েছে।
আসুন, আমরা বিএমএসএফ এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই়। ঘুনে ধরা এই গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজাই। বিএমএসএফ’র সাথেই থাকুন। বিজয় আমাদের হবেই হবে। যদি লক্ষ্য থাকে অটুট তবে দেখা হবে বিজয়ে…

Saturday, 16 May 2020

সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পিআরও পদে প্রকৃত সাংবাদিক নিয়োগ করতে হবে


পিআরও কি? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুদিন আগে এই সংক্রান্ত একটি পোষ্ট করায় কমেন্টস ও ইনবক্সে পিআরও সম্পর্কে কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন। পিআরও হচ্ছে পাবলিক রিলেশন অফিসার কিংবা জনসংযোগ কর্মকর্তা ।
সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমুহে জনগুরুত্বপূর্ন পদ এটি। সাংবাদিকরাই এই খন্ডকালীন কাজে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো। পদটিতে নিয়োগ প্রদান করা হলে সারাদেশে কয়েক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হতো বলে বিএমএসএফ মনে করছে।
যেভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইনী জটিলতা এড়াতে আইনজীবিদের লিগ্যাল এ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তেমনি জনগন ও মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত রাখতে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে পিআরও নিয়োগের বিধান রয়েছে।
ধরুন, একজন সাংবাদিক হবেন এমপি, মেয়র, চেয়ারম্যান কিংবা কোন কোম্পানীর পিআরও। চলমান ব্যবস্থাপনায় এখনও কিছু কিছু এলাকায় এসব নেতাদের কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করছেন। সেক্ষেত্রে কোথাও কোথাও দালালখ্যাতি পেয়েছেন অনেকে। যদি একই কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করা হয় তবে এটি পেশাগত কাজ বলেও বিবেচিত হবে।
কিন্তু কালক্রমে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত এইপদটিতে ভিন্নপেশার লোকজন অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। শতকরা ৫ ভাগ সাংবাদিকও পেশাটিতে নেই।
প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু দূর্ণীতিবাজরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে সাধারণ কোটা থেকেই পদটিতে নিয়োগ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আবারো তৃণমূল থেকে সাংবাদিকরা সক্রিয় হলে ফিরে আসতে পারে পেশার আধিপত্য।
দেশের প্রতিষ্ঠান গুলোতে পিআরও পদে প্রকৃত সাংবাদিক নিয়োগ করা হলে সম্মানজনক বেতনে কাজ করতে পারবে দেশের কয়েক হাজার সাংবাদিক। পিআরও কেবলমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠানেই নয়। বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জনগনের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যসব পদের মত এই পদটিতে সাংবাদিককে পিআরও হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী জনমত তৈরী করে চলছে। ইতিমধ্যে এই দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সাংবাদিকরা ঐক্যমত পোষন করে কাজ করছে। দাবিটি বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের প্রয়োজন সজাগ-সচেতন থাকা। মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকের নিজস্ব এই পদটি আজ অন্য পেশার লোকের দখলে।
লেখক: আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম- বিএমএসএফ, কেন্দ্রীয় কমিটি ০১৭১২৩০৬৫০১, মে ১৬, ২০২০ খ্রী:।

Tuesday, 5 May 2020

'মিস্ত্রি বাড়ি ঘর বনাম সাংবাদিকের অধিকার-আহমেদ আবু জাফর


৯৬ সালে আমানউল্লাহ আমান শ্রম প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রথমে সাংবাদিকদের শ্রম আইনের অধীনে নিয়ে কাজটি ভাল করে যাননি।
৪৯ বছর সময়ে দাঁড়িয়ে কখনো সাংবাদিকেরা তথ্য মন্ত্রণালয়, কখনো শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতায়। কী এক আজব দেশ! আসলে এই পেশার সাথে জড়িত দেশের কয়েক হাজার সাংবাদিক আজো খুঁজে পেলোনা তাদের আপন নিবাস।
যেমন: শিক্ষকরা শিক্ষা অধিদপ্তর, কৃষকরা কৃষি অধিদপ্তরে, চৌকিদার- পুলিশেরা স্বরাষ্ট্র, ডাক্তাররা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এমনকি ইমামরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত । প্রশ্ন রইলো সাংবাদিকরা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ (১-৭ মে) চলাকালে আপনিও সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে শপথ নিন। নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিকল্পনা ও কৌশল সংগ্রহ করুন।
জানেনতো, সমাজের সকল পেশাজীবীরা আপনারা/ সাংবাদিকদের লেখনী দিয়ে দাবি আদায় করে ঘরে ফিরে গেছেন। বিষয়টি যেমন মিস্ত্রি বাড়ি ঘর ওঠেনা অনেকটা সেরকম।
আপনি সাংবাদিক। তাই নিজ নিজ এলাকায় পেশাগত ঐক্যবদ্ধ থাকুন। বিএমএসএফ'র ১৪ দফা বাস্তবায়নের জন্য আপনার এলাকায় সকলকে নিয়ে কমিটি করুন। আপনি অন্য সংগঠন করেন সমস্যা নেই। বিএমএসএফ সকল সাংবাদিকের কথা বলে।
আপনার এলাকায় পেশার সাথে বিরোধীর তালিকা তৈরী করুন। নিজ আইডিতে অন্তত সাংবাদিকদের দাবি অধিকার নিয়ে আপনিও দু কলম লিখুন...
আপনি সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিককে অন্তত স্নেহ করতে শিখুন। এমনটি শুরু করলে জুনিয়ররা আপনাকে ভক্তি শুরু করবে। দয়া করে পেশাটিকে আর কলংকিত না করে পেশাটি রক্ষায় আন্তরিক হোন।
বিএমএসএফ'র পাশে থাকুন- সাংবাদিকদের ভালবাসুন...।
আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক, বিএমএসএফ, কেন্দ্রীয় কমিটি ০১৭১২৩০৬৫০১। ৫ মে ২০২০।

Friday, 27 March 2020

যারা এখনও পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সন চালু রেখেছেন তারাই গণমাধ্যম বিরোধী: বিএমএসএফ

 করোনা ইস্যুতে বিএমএসএফ দেশের
সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রিন্ট
পত্রিকা বন্ধ রেখে অনলাইন চালু রাখার অাহবান করায় কেউবা
এটাকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান বলছেন। বিএমএসএফ
এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
বিএমএসএফ সবসময় গণমাধ্যমের স্বার্থেই কথা বলে,
আগামিতেও বলবে। ইতিমধ্যে দেশের অধিকাংশ পত্রিকা
তাদের অনলাইন চালু রেখে প্রিন্ট ভার্সন বন্ধ ঘোষণা
করেছেন তাদের প্রতি দেশের সাংবাদিকদের পক্ষ
থেকে বিএমএসএফ কৃতঞ্জতা জানায়।
বিএমএসএফ'র সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক
আহমেদ আবু জাফর বলেন, আমরা কখনো গণমাধ্যমের
বিরুদ্ধে নয়। বরং আপনারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না
করে তাদের নিরাপত্তা পোশাক না দিয়ে পত্রিকা চালু
রেখেছেন ও ফেসবুকে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছেন,
আপনারাই সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিরোধী।
বিএমএসএফ'র পক্ষ থেকে দেশে কর্মরত অপেক্ষাকৃত
অর্থনৈতিক দূর্বল সাংবাদিকদের করোনা ইস্যুতে আর্থিক
সহযোগিতা করার জন্য সরকারের নিকট দাবি করা হয়।
দেশের এই মহামারী ক্রান্তিকালে করোনার ভয়ে
অনেকই প্রিন্ট পত্রিকা ক্রয় কিংবা ধরতেই চায়না।
বরং আপনারা সরকারের stay home নিয়মনীতি তোয়াক্কা না
করে সাংবাদিকদের বাইরে অনিরাপদে রাখছেন।
তাই এখনও যারা পত্রিকাটির প্রিন্ট ভার্সন চালু রেখে সাংবাদিক,
প্রেস কর্মচারীদের অনিরাপদ রেখেছেন আজই
ঘোষণা দিয়ে প্রিন্ট ভার্সন বন্ধ রাখুন।

Wednesday, 25 March 2020

সিলেটে পত্রিকা ছাপা বন্ধ আগামী কালথেকে,,



করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারণে গণপরিবহন বন্ধ এবং পত্রিকা বিপণনজনিত সমস্যাসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটের দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে সিলেটের দৈনিক পত্রিকাসমূহ ছাপানো বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্থানীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছানো কষ্টকর। এ অবস্থায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পত্রিকাগুলো আবার প্রকাশ কর হবে বলে সম্পাদকরা সিদ্ধান্ত নেন।

প্রিন্ট পত্রিকাগুলোকে বন্ধের আওতায় আনা উচিত: বিএমএসএফ


 মহামারী করোনা মোকাবেলায় দেশের প্রিন্ট পত্রিকাগুলোকে বন্ধ রেখে অনলাইন সংস্করণের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। যেখানে পত্রিকাগুলো বিজ্ঞাপনও অনলাইন ভার্সনে চালু রাখতে পারবেন। করোনা ভাইরাস এড়াতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে সরকার ও গণমাধ্যমের নিকট এমন দাবি করা হয়েছে।
বুধবার বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, এমননিতেই করোনার ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ হিমশিম খাচ্ছে। কোনভাবেই বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত নয়। কাগজের মাধ্যমেও করোনার ভাইরাস ছড়াতে পারে। দৈনন্দিন দেশে লাখলাখ পত্রিকা মানুষের হাতবদল হয়। পত্রিকার মাধ্যমেও কোন না কোন ভাবে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এ ছোঁয়াচে ভাইরাসটি নানা ভাবে বিস্তার ঘটছে। তবে পেপার পত্রিকার মাধ্যমেও এর বিস্তার ঘটতে পারে। দৈনিক লাখ লাখ পত্রিকা বিভিন্ন জনের হাতঘুরে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে থাকে। সেক্ষেত্রে ঐ গ্রাহকও নিরাপদ নয়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা পত্রিকা রাখাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ অবস্থায় দেশের পত্রিকাগুলোকে আপাদত করোনা ঝুঁকিকালীন সময়ে প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ রেখে অনলাইন সংস্করণ চালুর দাবি করা হচ্ছে।
প্রিন্ট পত্রিকা বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী করোনা দূর্যোগ মোকাবেলায় দেশের গণমাধ্যম সমুহে কর্মরত সাংবাদিক, অফিস কর্মকতা-কর্মচারী, প্রেসের কর্মচারীরাও ছুটি পেতো। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামিকাল ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটিতে থাকছে বাংলাদেশ। তবে গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্টদের কোন ছুটি নেই। তারা অনিরাপদ উপায়ে সংবাদ সংগ্রহ এবং পত্রিকা প্রিন্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে গোটা দেশ লকডাউন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন সেখানে মিডিয়া পাড়া এখনও সরগরম।
এদিকে বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পোশাক প্রদানের জন্য সরকারের নিকট দাবি করা হয়েছে। সংবাদকর্মীরা অনিরাপদ অবস্থায় তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে চলছেন। বিষয়টি সরকারকে বিবেচনায় আনার আহবান জানানো হয়েছে।